Blog / Taxpayers' Grievance Redress System

Income Tax Laws • 22 May 2026 • 16 min read • by Super Admin

Taxpayers' Grievance Redress System

করদাতাদের আইনগত প্রতিকার

(আয়কর আইন, ২০২৩ এর আলোকে)

- আসাদ হাফিজ

আয়কর আইন, ২০২৩ মোতাবেক একজন করদাতার কর নির্ধারণ করা হয়। করদাতাগণ অনেক সময়ই কর অফিসের কর নির্ধারণ পদ্ধতিতে সন্তুষ্ট হন না। করদাতাগণ উপ কর কমিশনারের কর নির্ধারণী আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে প্রতিকারের জন্য বিভিন্ন আপিল দপ্তরে কর নির্ধারণী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করতে পারেন। করদাতা সে সব কারণে আপিল দায়ের করতে পারেন তা হলো;

(ক) আয় নির্ধারণ;

(খ) পরিশোধ্য করদায় নিরূপণ;

(গ) ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা;

(ঘ) দণ্ড বা সুদ আরোপ;

(ঙ) চার্জ এবং সারচার্জ বা অন্য কোন অর্থ হিসাব;

(চ) প্রত্যর্পণের পরিমাণ নিরূপণ;

(ছ) করের ক্রেডিট; এবং

(জ) কোন প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত। (ধারা ২৮৬)

কর নির্ধারণী আদেশের বিরুদ্ধে একজন করদাতা যেসব কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল দায়ের করতে পারেন তা হলো:

(১) যুগ্ম কর কমিশনার (আপিল)/অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল)/কর কমিশনার (আপিল)

(২) ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনাল

(৩) হাইকোর্ট ডিভিশনে রেফারেন্স মামলা দায়ের

(৪) আপিল ডিভিশনে আপিল দায়ের

(৫) আপিল ডিভিশনে রিভিউ আবেদন দাখিল

(৬) কর কমিশনারের নিকট রিভিশন আবেদন দাখিল

(৭) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি দপ্তরে আবেদন দাখিল

(৮) ট্যাক্স রিকভারী অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল

(৯) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট আবেদন দাখিল

(১)    যুগ্ম কর কমিশনার (আপিল)/অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল)/কর কমিশনার (আপিল) এর নিকট আপিল দায়ের (১ম আপিল)

উপ কর কমিশনারের আদেশে ক্ষুব্ধ হলে একজন করদাতা সর্বপ্রথম যে আদালতে প্রতিকারের জন্য আবেদন করতে পারেন তা হলো যুগ্ম কর কমিশনার (আপিল)/অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল)/কর কমিশনার (আপিল) এর দপ্তরে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কোন মামলা কোন দপ্তরে দাখিল করা যাবে তা নির্ধারণ করে থাকে। যেহেতু কর অঞ্চলের তুলনায় আপিল অঞ্চলের সংখ্যা কম, সেহেতু একটি কর অঞ্চলের অধীন সাধারণ বেশ কয়েকটি কর অঞ্চল থাকে। সকল কোম্পানি মামলা কর কমিশনার (আপিল) এর দপ্তরে দাখিল করতে হবে। রেঞ্জ-১ এর অধীন সার্কেলসমূহের মামলা সংশ্লিষ্ট আপির অঞ্চলের রেঞ্জ-১ এ, রেঞ্জ-২ এর মামলা আপিল রেঞ্জ-২ এ, রেঞ্জ-৩ এর মামলা আপিল রেঞ্জ-৩ ও রেঞ্জ-৪ এর মামলা সাধারণত: আপিল রেঞ্জ-৪ এর দপ্তরে দাখিল করতে হয়।

আপিল দায়েরের পদ্ধতি:

(ক)   আদেশ জারীর ৪৫ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে; (২৮৬)

(খ)    ২০০ টাকা আপিল ফি পরিশোধ করে নির্ধিাতি ফরমে আপিল দায়ের করতে হবে; (২৮৬)

(গ)    রিটার্ন দাখিলকৃত হলে স্বীকৃত করদায় পরিশোধ না করে আপিল করা যাবে না;

(ঘ)    রিটার্ন দাখিল না করা হলে করদাবির ন্যূনতম ১০% কর পরিশোধ করতে হবে;

(ঙ)    আপিল কর্তৃপক্ষ আপিলকারীকে ও সংশ্লিষ্ট উপ  কর কমিশনারকে নোটিশ প্রদান করবেন; তারা ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন;

(চ)    আপিল চলাকালীন আপিলকারী অতিরিক্ত কারণ অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন;

(ছ)    আপিল কর্তৃপক্ষ নিজে তদন্ত করতে পারবেন, বা তদন্ত করাতে পারবেন, বা তথ্য তলব করতে পারবেন;

(জ)   আপিলকারী অতিরিক্ত তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন না যদি না কোন উপস্থাপনে শুনানিকালে তাকে বারিত করা    না হয়; [ধারা ২৮৮(৫)]

(ঝ)   আপিল কর্তৃপক্ষ বিরোধীয় আদেশ চূড়ান্তকরণ, হ্রাস, বৃদ্ধি, নাকচ বা রদ করতে পারবেন। শুধুমাত্র ৩৩৫ ধারার বিধানানুযায়ী নোটিশ জারী না হলে বিরোধীয় আদেশ নাকচ করা যাইবে, অন্যথায় নয়। [২৮৯(২)]

(ঞ)  উপযুক্ত করণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে কোন অংক বৃদ্ধি করা যাবে না; [২৮৯(৩)]

(ট)    ফার্মের আয় হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে অংশীদারদের মামলা সংশোধনের জন্য উপ কর কমিশনারকে নির্দেশ দিতে পারবেন;

(ঠ)    আপিল মামলা নিষ্পত্তির পর ৩০ দিনের মধ্যে উহা আপিলকালী, উপ কর কমিশনার ও কর কমিশনারকে অবহিত করবেন;

(ড)   আপিল দায়ের মাস শেষ হওয়ার পর ১৫০ দিনের মধ্যে আদেশ প্রদান করতে হবে, অন্যথায় আপিল মঞ্জুর হয়েছে মর্মে গণ্য হবে;

(ঢ)    আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে উপ কর কমিশনার উহা কার্যকর করবেন এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে অবহিত করবেন। সেট-এ-সাইড (নাকচ) এর ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিপূর্বক পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অবহিত করতে হবে।

আপিল দায়ের করার ফরম

আইটি-২৭

কর কমিশনার (আপিল)/আপিলাত যুগ্ম কর কমিশনারের নিকট আপিল করার ফরম

আপিলাত রেঞ্জ- ......, কর আপিল অঞ্চল- ........

কর নির্ধারণী সার্কেল

:

কর সার্কেল-......., কর অঞ্চল-..............

আপিলকারী নাম ও ফার্মের ক্ষেত্রে অংশীদারের নামসহ

:

 

আয় বৎসর

:

 

কর নির্ধারণী বৎসর

:

 

উপ কর কমিশনার/পরিদর্শী যুগ্ম কর কমিশনারের নাম যিনি কর নির্ধারণী আদেশ দিয়াছেন

:

 

যে ধারায় উপ কর কমিশনার/ পরিদর্শী যুগ্ম কর কমিশনার আদেশ (কর নির্ধারণী) করিয়াছেন

:

আয়কর আইন, ২০২৩ এর ...........

দাবিকৃত কর

:

 

পরিশোধকৃত কর

:

 

যে তারিখে কর নির্ধারণী আদেশ অথবা দাবিনামা জারী করা হইয়াছে

:

 

যে ঠিকানায় আপিলকারীর নোটিশ দেওয়া যাইতে পারে

:

 

আপিলে কতটুকু কমানো যায়

:

আপিলের কারণসমূহের উপর ভিত্তি করে আইন অনুযায়ী যতটুকু কমানো যায়।

আপিলের কারণসমূহ

:

 

১।

২।

৩।

 

     স্বাক্ষর

আপিলকারীর নাম: ......................

ঠিকানা: ...............................

 

আমি,........................., আপিলকারী প্রত্যয়ন করিতেছি যে, উপরে উল্লেখিত বিষয়বস্তু আমার জানা মতে সঠিক ও সত্য । 

     স্বাক্ষর

আপিলকারীর নাম: .....................

ঠিকানা: ...............................

 

(২)        ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের [ধারা ২৯১]

(ক)   আপিলাত যুগ্ম কর কমিশনার বা আপিলাত অতিরিক্ত কর কমিশনার বা আপিলাত কর কমিশনার কর্তৃক জারীকৃত আদেশের বিরুদ্ধে ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালে নির্ধারিত ফরমে আপিল দায়ের করতে হবে;

(খ)    ১ম আপিল আদেশের ফলে সৃষ্ট সংশোধিত দাবির ১০% কর পরিশোধ করতে হবে, কর কমিশনার, আবেদনের প্রেক্ষিতে, উহা হ্রাস করতে পারেন। এক্ষেত্রে আবেদনের ৩০ দিনের মধ্যে আদেশ দিতে হবে [২৯১(৩)]

(গ)    বিরোধীয় আদেশ প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে, তবে ট্রাইব্যুনাল চাইলে সময় মার্জনা করতে পারেন;

(ঘ)    ১০০০ টাকা আপিল ফি প্রদান করতে হবে; [২৯১(৬)]

(ঙ)    উপ কর কমিশনার কমিশনারের অনুমোদনক্রমে ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করতে পারবেন; [২৯১(৪)]

(চ)    শুনানি ব্যতীত আপিল নিষ্পত্তি করবে না;

(ছ)    ট্রাইব্যুনাল আপিল সংক্রান্ত যেকোন তথ্য তলব করতে পারবেন, বা উপ কর কমিশনার দ্বারা অধিকতর তদন্ত করাতে পারবেন;

(জ)   ফার্মের আয়ের হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অংশীদারদের আয় সংশোধনের নির্দেশনা দিতে পারবেন;

(ঝ)   মামলা নিষ্পত্তির ৩০ দিনের মধ্যে আদেশ আপিলকারী ও কর কমিশনারের নিকট জারী করতে হবে;

(ঞ)  আপিল দয়েরের মাস শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে আদেশ প্রদান করতে হবে, অন্যথায় আপিল মঞ্জুর হয়েছে মর্মে গণ্য হবে। তবে ২ সদস্য একমত না হলে অতিরিক্ত সদস্য আপিল দায়েরের মাস শেষ হওয়ার পর ২৪০ দিন সময় পাবেন; [২৯১(৬)]

(ট)    ট্রাইব্যুনালের আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। [২৯১(৫)]

(ঠ)    আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে উপ কর কমিশনার উহা কার্যকর করবেন এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে অবহিত করবেন। সেট-এ-সাইড (নাকচ) এর ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিপূর্বক পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অবহিত করতে হবে।

FORM APPEAL TO THE TAXES APPELLATE TRIBUNAL

In the Taxes Appellate Tribunal ...............................................................................................

No. .............................................................. of 20

Appellant -

 

 

Vs    Respondent-

 

Income Tax * Circle in which assessment was made and * range/zone/in which it is located.  

Income year

 

 

Assessment year 

 

 
Section of the Income Tax Act, 2023, under which the Deputy Commissioner of Taxes passed the order 
* Inspecting Joint Commissioner of Taxes passing the order under section 213 
* Appellate Joint Commissioner of Taxes determining the appeal 

Date of communication of the order of the Deputy Commissioner of Taxes. 

Inspecting Joint Commissioner of Taxes

Appellate Joint Commissioner of Taxes 

 
Address to which notices may be sent to the respondent 
Address to which notice may be sent to the appellant  

Claim in appeal

 

as per law.

GROUNDS OF APPEAL

1.

2.

3.

 

Signature : ......................................................... 

(Appellant/Authorised Representative, if any)

 

Verification

I ............................................ the appellant/authorised representative, do hereby declare that what is stated above is true to the best of my information and belief. Verified today, the .................................................... day of 20............. 

 

Signature : .............................................. 

(Appellant/Authorised Representative)

(৩)        হাইকোর্ট ডিভিশনে রেফারেন্স মামলা দায়ের (ধারা ২৯৩)

(ক)   বিরোধীয় আদেশ প্রাপ্তির ৯০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে রেফারেন্স মামলা দায়ের করতে হবে; [ধারা ২৯৩(১)]

(খ)    ২,০০০ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে; [ধারা ২৯৩(১)]

(গ)    সংশোধিত দাবি ১০ লক্ষ টাকা হলে উহার ১৫% বা সংশোধিত দাবি ১০ লক্ষ টাকার অধিক হলে উহার ২৫% মামলা দায়েরের পূর্বে পরিশোধ করতে হবে। বোর্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে উহা হ্রাস করতে পারে; [ধারা ২৯৩(২)]

(ঘ)    নির্ধারিত ফরমে ৩ কপি আবেদন দাখিল করতে হবে যার সাথে দাখিল করতে হবে - 

(১) বিরোধীয় আদেশ,

(২) যুগ্ম কর কমিশনার (আপিল) এর আদেশ ও

(৩) প্রয়োজনীয় অন্যান্য দলিল

(ঙ)    শুনানির দিন ধার্য হলে বিবাদী কর্তৃক শুনানির ৭ দিন পূর্বে দফাওয়ারি উত্তর দাখিল করতে হবে; [ধারা ২৯৩(৫)]

(চ)    ২ জন বিচারকের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বিভাগের গঠিত বেঞ্চ শুনানি করবে; [ধারা ২৯৪(১)]

(ছ)    শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত রায় প্রদান করবে এবং উহার কপি ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করবে। ট্রাইব্যুনাল উহা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে; [ধারা ২৯৪(২)]

(জ)   মামলার ব্যয় হাইকোর্ট বিভাগ যে রকম সিদ্ধান্ত প্রদান করে, সে রকমভাবে সেই পক্ষ বহন করবে; [ধারা ২৯৪(৩)]

(ঝ)   হাইকোর্ট বিভাগ কোন স্থগিতাদেশ না দিলে মমলা চলমান অবস্থায়ও দাবি আদায়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে; [ধারা ২৯৪(৪)]

(ঞ)  হাইকোর্ট বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির কোন সময়সীমা নেই;

(ট)    আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে উপ কর কমিশনার উহা কার্যকর করবেন এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে অবহিত করবেন। সেট-এ-সাইড (নাকচ) এর ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিপূর্বক পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অবহিত করতে হবে।

(৪)        আপিল ডিভিশনে আপিল দায়ের (ধারা ২৯৫)

(ক) আপিল ডিভিশনে আাপিল দায়েরের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমতি গ্রহণ করতে হবে; [ধারা ২৯৫(১)]

(খ)    শুনানি শেষে আপিল বিভাগ উপযুক্ত রায় প্রদান করবে এবং উহা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে; [ধারা ২৯৫(৩)]

(গ)    মামলার ব্যয় আপিল বিভাগ যে রকম সিদ্ধান্ত প্রদান করে, সে রকমভাবে সেই পক্ষ বহন করবে; [ধারা ২৯৫(৪)]

(ঘ)    হাইকোর্ট বিভাগ কোন স্থগিতাদেশ না দিলে মমলা চলমান অবস্থায়ও দাবি আদায়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে; [ধারা ২৯৫(৪)]

(ঙ)    আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তির কোন সময়সীমা নেই;

(চ)    আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে উপ কর কমিশনার উহা কার্যকর করবেন এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে অবহিত করবেন। সেট-এ-সাইড (নাকচ) এর ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিপূর্বক পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অবহিত করতে হবে।

(৫)        আপিল ডিভিশনে রিভিউ আবেদন দাখিল

এ বিধানটি আয়কর আইনে উল্লেখ নেই। তবে প্রচলিত বিচার পদ্ধতি অনুসারে একজন নাগরিক আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারেন যাকে রিভিউ পিটিশন বলা হয়ে থাকে। একই আদালতে একই বিচারকের নিকট এ পিটিশন দাখিল করা হয়। এ জাতীয় আবেদনে সাধারণত সুনির্দিষ্ট বিষয় এড্রেস করা হয়, যেমন- বিশেষ কোন আইনগত ত্রুটি বা নতুন কোন এভিডেন্স। রিভিউ পিটিশনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুসরণ করা হয়ে থাকে।

(৬)        কর কমিশনারের নিকট পুনর্বিবেচনার আবেদন (ধারা ২৮৫)

একজন করদাতা উপ কমিশনারেরর আদেশে সংক্ষুব্ধ হলে ১ম আপিল আপিলাত যুগ্ম কর কমিশনার অথবা আপিলাত অতিরিক্ত কর কমিশনার, বা কর কমিশনার (আপিল) এর দপ্তরে প্রতিকারের জন্য আবদেন করতে পারেন, বা সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের (যে কর কমিশনারের অধীন সার্কেলে তার আয়কর মামলা নিষ্পন্ন হয়) নিকট উপ কর কমিশনারের আদেশটি পূনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারে, অথবা তিনি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) জন্য আবেদন করতে পারেন।

কর কমিশনারের নিকট রিভিশন আবেদন দায়েরের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জন্য পালনীয় ও কর কমিশনারের করণীয় বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:

(ক)   যে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়, উহা প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে;

(খ)   অন্য আপিল ফোরামে আপিলের আবেদন করার অধিকার পরিত্যাগ করতে হবে;

(গ)   কোন আপিল ফোরামে মামলা চলমান থাকা যাবে না;

(ঘ)   আবেদন ফি ২০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে;

(ঙ)   স্বীকৃত করদায় পরিশোধ করতে হবে;

(চ)    আদেশ প্রদানের সময়সীমা ৬০ দিন। ৬০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রদানে ব্যর্থ হলে করদাতার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে মর্মে গণ্য হবে;

(ছ)   করদাতার জন্য ক্ষতিকর কোন আদেশ দেয়া যাবে না;

(জ)   শুনানির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত প্রদান করতে হবে;

(ঝ)   কর কমিশনার চাইলে অনুসন্ধানের মাধ্যমে যেকোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন বা যে কোন দপ্তর হতে যে কোন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন;

(ঞ)  কর বিভাগ কর কমিশনারের নিকট রিভশন আবেদন দায়ের করতে পারবেন না;

(ট)    আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে উপ কর কমিশনার উহা কার্যকর করবেন এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে অবহিত করবেন। সেট-এ-সাইড (নাকচ) এর ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিপূর্বক পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অবহিত করতে হবে।

(৭)        বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) দপ্তরে আবেদন (ধারা ২৯৬-৩০৮)

একজন করদাতা প্রথমেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দপ্তরে আবেদন করতে পারবেন বা যে কোন স্টেজে আপিল চলমান             থাকা অবস্থায় বা আপিল শেষে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দপ্তরে আবেদন করতে পারবেন। বিকল্প পথে বিরোধ নিষ্পিত্তির জন্য অনুসরণীয় বিধি-বিধান নিম্নরূপ:

(ক)   সুপ্রিম কোর্টের কোন বিভাগে কোন মামলা চলমান থাকলে উক্ত কোর্টের অনুমোদন সাপেক্ষে এডিআর এ আবেদন করা যাবে। অনুমোদনের কপি আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে, এক্ষেত্রে উহা সাময়িক স্থগিত থাকবে (ধারা ৩০৩);

(খ)    রিট চলমান থাকলে এডিআর এ আবেদন করা যাবে না;

(গ)    স্বীকৃত করদায় পরিশোধ করতে হবে;

(ঘ)    বিরোধীয় আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হতে বা আদালতের অনুমতি প্রাপ্তির তারিখ হতে ৬০ দিন; (বিধি ৩)

(ঙ)    আবেদন ফি প্রতি করবর্ষের জন্য ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে; (বিধি ৪)

(চ)    কোথায় আবেদন দায়ের করতে হবে-

        (১)     ১ম আপিল হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট

        (২)     কর আপিল অঞ্চলে আপিল চলমান থাকলে যে দপ্তরে আপিল চলমান সে দপ্তরে

        (৩)     ট্রাইব্যুনালে আপিল চলমান থাকলে বেঞ্চের রেজিস্টারের নিকট

        (৪)     সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলমান থাকলে দ্বিতীয় সচিব (ট্যাক্সেস লিগ্যাল) এর দপ্তরে

(ছ)    আবেদন ৫ কপি দাখিল করতে হবে;

(জ)   প্রাপ্ত আবেদন ৩ কপি বোর্ডের নিকট প্রেরণ করতে হবে। বোর্ড সহায়তাকারী মনোনয় করে তার নিকট ও সংশ্লিষ্ট কমিশনারের নিকট প্রেরণ করবেন।

(ঝ)   আবেদনকারী সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে আপত্তি দিলে বোর্ড সহায়তাকারী পরিবর্তন করে দিবেন;

(ঞ)  কমিশনার উহা পাওয়ার পর উপ কর কমিশনারের নিম্নে নয় এমন একজন প্রতিনিধি মনোনীত করবেন;

(ট)    সহায়তাকারী বিরোধীয় বিষয়বস্তু নির্ধারণ করবেন এবং উভয় পক্ষকে তার দপ্তরে আলোচনার জন্য তলব করবেন;

(ঠ)    উভয় পক্ষ মতৈক্যে উপনীত হলে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হবে এবং স্বাক্ষরিত কপি ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারী, বোর্ড, কর কমিশনার ও উপ কর কমিশনারকে প্রদান করবেন; [৩০৪]

(ড)   উভয় পক্ষ মতৈক্যে উপনীত না হলে তাও ১৫ দিনের মধ্যে সকল পক্ষকে অবহিত করবেন; [৩০৪] এক্ষত্রে করদাতা উপযুক্ত আপিল দপ্তরে আপিল করতে পারবেন বা আপিল চলমান থাকলে যে অবস্থায় উহা স্থগিত ছিল সেখান থেকে পুনর্জীবীত হবে; (৩০৬)

(ঢ)    মতৈক্য হলে উহা চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং উহার বিরুদ্ধে কোন দপ্তরে আপিল করা যাবে না; (৩০৫)

(ণ)    সকল কার্যে সহায়তাকারী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ থাকবেন;

(ত)   সহায়তাকারী আবেদন বহির্ভূত কোন বিষয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবেন না;

(থ)    সহায়তাকারী প্রয়োজনবোধে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারবেন;

(দ)    আবেদন করার পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সমাপ্ত করতে হবে;

(ধ)    বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কোন কার্যধারার বিরুদ্ধে বা সংশ্লিষ্ট কোন পক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না (৩০৮);

(ন)    আদেশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে উপ কর কমিশনার উহা কার্যকর করবেন এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে অবহিত করবেন। সেট-এ-সাইড (নাকচ) এর ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তিপূর্বক পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে অবহিত করতে হবে।

(৮)        ট্যাক্স রিকভারী অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল [ধারা ২৯০]

(ক) কর কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত অতিরিক্ত কর কমিশনারের নিকট আপিল দায়ের করতে হবে;

(খ) আদেশ প্রপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হবে;

(গ) অতিরিক্ত কর কমিশনারের আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

(৯)        সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট আবেদন দাখিল

এ বিধানটিও আয়কর আইনে নেই। দেশের প্রচলিত প্রতিকার ব্যবস্থা অনুযায়ী একজন নাগরিক যদি মনে করেন যে, আয়কর দপ্তরের কোন কার্যধারার কারণে তার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তাহলে তিনি রিট দায়েরের বিদ্যমান বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট দায়ের করতে পারেন। রিট দাখিলের কারণে আদালত যদি আয়কর বিভাগের কোন সিদ্ধান্তের উপর বা কার্যের উপর নিষেধাজ্ঞা না দেয় তাহলে আয়কর বিভাগের কার্যের উপর উক্ত রিট কোন প্রভার ফেলবে না।

বিভিন্ন ফোরামে আপিল দায়েরের একটি সংক্ষিপ্তসার নিম্নে দেয়া হলো:

ক্রমিক

আপিল ধাপ

আপিল কর্তৃপক্ষ

আপিল দায়েরের সময়সীমা

(দিন)

আপিল ফি (৳)

স্বীকৃত করদায় পরিশোধ করতে হবে

করদাবি পরিশোধ করতে হবে

আদেশ প্রদানের সময়সীমা

রায় কার্যকরের সময়সীমা

(নাকচ হলে)

(১)

(২)

(৩)

(৪)

(৫)

(৬)

(৭)

(৮)

(৯)

১ম আপিল

যুগ্ম/অতি:/কর কমশনার (আপিল)

৪৫ দিন

২০০

হ্যাঁ

রিটার্ন দিলে - ০

না দিলে - ১০%

১৫০ দিন

৩০ দিন

(৬০ দিন)

২য় আপিল

ট্যাকসেস আপিলাত ট্রাইব্যুনাল

৬০ দিন

১,০০০

হ্যাঁ

১০%

১৮০ দিন

(২৪০ দিন)

৩০ দিন

(৬০ দিন)

৩য় আপিল

হাইকোর্ট বিভাগ

৯০ দিন

২,০০০

হ্যাঁ

১৫%

২৫%

--

৩০ দিন

(৬০ দিন)

৪র্থ আপিল

আপিল বিভাগ

--

--

--

--

--

৩০ দিন

(৬০ দিন)

৫ম আপিল

রিভিউ (আপিল বিভাগ)

--

--

--

--

--

--

রিভিশন

কর কমিশনারের দপ্তর

আদেশ প্রাপ্তির ৬০ দিন

২০০

হ্যাঁ

--

৬০ দিন

৩০ দিন

(৬০ দিন)

শালিশ

এডিআর দপ্তর

--

৫০০

প্রতি বর্ষ

হ্যাঁ

--

৩ মাস

৩০ দিন

(৬০ দিন)

আপিল

অতিরিক্ত কর কমিশনার

৩০ দিন

--

--

--

--

--

রিট

হাইকোট বিভাগ

যেকোন সময়

--

--

--

--

--

- ০ -

[লেখক কর কমিশনার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড]

Comments

Login to comment.

No comments yet.