Self-Assessment and Normal Assessment
স্বনির্ধারণী রিটার্ন ও সাধারণ রিটার্ন
করদাতাগণ দুটি পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন - স্বনির্ধারণী পদ্ধতি ও সাধারণ পদ্ধতি। এ দুটি আসলে রিটার্ন দাখিলের পদ্ধতি নয়, এ দুটি হলো কর নির্ধারণের পদ্ধতি। করদাতাগণ নিজের প্রদেয় কর নিজে নির্ধারণ করে রিটার্ন দাখিল করলে তাকে স্বনির্ধারণী পদ্ধতির রিটার্ন বলে (ধারা-১৮০) এবং করদাতাগণ প্রদেয় কর নিজে নির্ধারণ না করে রিটার্ন দাখিল করলে এ জাতীয় রিটার্নকে সাধারণ রিটার্ন বলে। সাধারণ রিটার্নের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে কর অফিস হতে শুনানির নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে কর নির্ধারণ সম্পন্ন করা হয়।
বর্তমানে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ১৭০ অনুযায়ী সকল শ্রেণির করদাতাগণকে স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়ছে। রিটার্ন সংশ্লিষ্ট করবর্ষের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে তা স্বনির্ধারণী রিটার্ন হিসেবে বিবেচিত হবে। যেমন- ২০২৫-২৬ করবর্ষের রিটার্ন ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে দাখিল করা হলে তা স্বনির্ধারণী রিটার্ন হবে।
নিম্নবর্ণিত রিটার্ন সাধারণ রিটার্ন হিসেবে গণ্য হবে-
আয়কর আইন, ২০২৩ এর ১৭৫ ধারা অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত রিটার্নসমূহ সাধারণ রিটার্ন হিসেবে গণ্য হবে:
(ক) সংশ্লিষ্ট করবর্ষের ৩০ জুনের পরে দাখিলকৃত রিটার্ন সাধারণ রিটার্ন হিসেবে গণ্য হবে।
(খ) অডিটের প্রেক্ষিতে করদাতা কর্তৃক ধারা ১৮২(৫) মোতাবেক দাখিলকৃত সংশোধিত রিটার্নে অডিটে উত্থাপিত ও তদন্তে প্রাপ্ত সকল পর্যবেক্ষণসমূহ যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হলে এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধ না হলে উক্ত রিটার্নটি সাধারণ রিটার্ন হিসেবে বিবেচতি হবে।
(গ) ২১২ ধারার নোটিশের প্রেক্ষিতে দাখিলকৃত রিটার্নে কর ফাঁকি সংক্রান্ত উত্থাপিত সকল বিষয় প্রতিফলিত না হলে এবং প্রযোজ্য কর পরিশোধ না করা হলে ২১২(১) ধারায় দাখিলকৃত রিটার্ন সাধারণ রিটার্ন হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে বাস্তবতা হলো- ১৮২(৫) ধারা বা ২১২(১) ধারায় দাখিলকৃত রিটার্ন করদাতার দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হলেও কর কর্মকর্তাগণ শুনানি গ্রহণ ব্যতীত, কোন কোন ক্ষেত্রে তদন্ত ব্যতীত, নিষ্পত্তি করেন না।
সাধারণ পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল ও স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল-কোন পদ্ধতির কি সুবিধা
স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। কর অফিসের কোন আদেশ দেয়ার প্রয়োজন হয় না, করদাতাকে রিটার্ন দাখিল বা মামলা নিষ্পত্তির সনদ নেয়ার জন্য অফিসেও আসতে হয় না। অনলাইনে সব স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তি হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট করবর্ষে সাধারণ পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিলের বিধান নেই।
সাধারণ পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করলে বা কোন রিটার্ন সাধারণ রিটার্ন হিসেবে বিবেচিত হলে কর অফিস হতে করদাতাকে নোটিশ প্রেরণ করা হয় করদাতাকে অফিসে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য। এ ছাড়া নির্ধরিত সময়ের পরে রিটার্ন দাখিলের জন্য ২৬৬ ধারায় জরিমানা প্রদেয় হবে।